ছেলে-মেয়ের বিয়ের বয়স সম্পর্কে ইসলামী নীতি ও বিধানের সারকথা হচ্ছে, ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে, এমনকি সাবালক হওয়ার আগেও মেয়েকে বিয়ে দেয়ার অবকাশ রয়েছে; তবে বিনা কারণে অতি অল্প বয়সে ছেলে-মেয়ের বিয়ে শাদীকে শরীয়ত উৎসাহিত করে না।
এ প্রসঙ্গে কুরআন মাজীদের সূরা তালাক (সূরা নং ৬৫)-এর ৪ নং আয়াতটি প্রাসঙ্গিক। ইরশাদ হয়েছে
وَ الّٰٓـِٔیْ یَىِٕسْنَ مِنَ الْمَحِیْضِ مِنْ نِّسَآىِٕكُمْ اِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلٰثَةُ اَشْهُرٍ وَّ الّٰٓـِٔیْ لَمْ یَحِضْنَ وَ اُولَاتُ الْاَحْمَالِ اَجَلُهُنَّ اَنْ یَّضَعْنَ حَمْلَهُنَّ وَ مَنْ یَّتَّقِ اللهَ یَجْعَلْ لَّهٗ مِنْ اَمْرِهٖ یُسْرًا .
তোমাদের যে সকল নারীর আর ঋতুমতী হওয়ার আশা নেই তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা সন্দেহ করলে তাদের ইদ্দত হবে তিনমাস, এবং যারা এখনো রজঃস্বলা হয়নি।…সূরা তালাক (৬৫) : ৪
আয়াতের উদ্ধৃত অংশে তালাকপ্রাপ্তা নারীর ইদ্দত উল্লেখিত হয়েছে। বলা হয়েছে যে, তালাকপ্রাপ্তা নারী যার বয়স হওয়ার কারণে ঋতুস্রাব বন্ধ হয়েছে এবং যার প্রাপ্তবয়স্কা না হওয়ার কারণে ঋতু শুরুই হয়নি, উভয়ের ইদ্দত তিন (চান্দ্র) মাস। অর্থাৎ উদ্ধৃত আয়াত প্রমাণ করছে যে, ঋতুমতী হওয়ার আগেও একটি মেয়ের বিয়ে হতে পারে এবং তালাকও হতে পারে।
নবী-যুগে অল্প বয়সে বিয়ের একাধিক দৃষ্টান্ত রয়েছে। স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা রাযি.-কে যখন বিয়ে করেন তখন তার বয়স ছিল ছয় বা সাত বছর। রোখসোতির সময় বয়স ছিল আট বা নয়। (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম) আর এ বিষয়ে উম্মাহর ফকীহ ও মুজতাহিদগণের ইজমাও রয়েছে। (আহকামুল কুরআন)
সুতরাং কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমায়ে উম্মতের
ভিত্তিতে এই বৈধতা ও অবকাশ প্রমাণিত। তবে ইসলামে সাধারণ অবস্থায় অপরিণত বয়সের বিয়েকে উৎসাহিত করা হয়নি। প্রতিবেশী নানা ধর্ম ও মতবাদের সাথে ইসলামের পার্থক্য এখানেই। ইসলাম বাল্য-বিবাহকে উৎসাহিত বা নিয়মে পরিণত করেনি আবার সর্বাবস্থায় চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধও করেনি।
ইসলামের এই প্রশস্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ বিধানের যথার্থতা অতি স্পষ্ট। বিচিত্র প্রয়োজন ও সংকটের ক্ষেত্রেও এ বিধান পালনযোগ্য।
সবশেষে কোনোরূপ অবকাশ ছাড়া বিশেষ কোনো বয়সকে অর্থাৎ ১৮ বছরকে বিয়ের বয়স সাব্যস্ত করা হলে যেসব কারণে তা প্রত্যাখ্যাত হবে তা হচ্ছে—
এক. সরাসরি কুরআন সুন্নাহ ও ইজমায়ে উম্মত দ্বারা প্রমাণিত ইসলামী বিধানের বিরোধী হওয়া।
দুই. দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আকিদা-বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির পরিপন্থী হওয়া।
তিন. বাস্তব সংকট ও প্রয়োজনের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করা।
চার. আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের যৌক্তিক সিদ্ধান্ত ও সামাজিক সম্মানের জন্য হুমকি হওয়া।
পাঁচ. মিথ্যা ও দুর্নীতির বিস্তার ঘটা।
ছয়. নৈতিক অবক্ষয় ও চরিত্রহীনতার বিস্তারে সহায়ক হওয়া ইত্যাদি।
সুতরাং এ ধরনের আইন প্রণয়নের কোনো অবকাশ নেই। এ ধরণের আইন বাতিল করতে হবে।
মাসিক আল কাউসার।