মুমিনের জীবনটা এক আজব সফর। পথে কাঁটা আছে, ধুলো আছে, মাঝেমাঝে ঝড়ও উঠে। আবার ঠিক তখনই দেখা মেলে আশার রোদের। এই লম্বা জীবনের যাত্রায় কেউ যদি প্রশ্ন করে —“আপনার সবচেয়ে মূল্যবান সম্বল কী?” আমি বলব- তাকওয়া।
হ্যাঁ, তাকওয়া। যেটা শুধু একটা শব্দ না। একটা দৃষ্টিভঙ্গি। একটা মানসিকতা। একটা আলো-যেটা অন্ধকার পথেও পথ দেখায়।
তাকওয়া মানে?
ধরুন আপনি এমন একটা জিনিস বুকের মধ্যে নিয়ে বাঁচেন, যা আপনাকে বারবার সচেতন দেয়- “আল্লাহ দেখছেন।” পাপ করতে গেলেই হাতটা থেমে যায়, চোখ নিচু হয়ে আসে, হৃদয় কেঁপে ওঠে। এই কাঁপুনিটাই তাকওয়া। এই সচেতন অবস্থাটাই একজন মুমিনের আসল অলংকার। তাকওয়া এমন না যে শুধু মসজিদে বসে পাওয়া যাবে। এটা মেলে তখন- আপনি যখন একা থাকেন, যখন কেউ দেখে না, আপনি নিজেকে পাপ থেকে রক্ষা করেন। কারণ আপনি জানেন, একজন তো দেখছেন- সর্বশক্তিমান আল্লাহ।
হযরত আলী (রাযি.) একবার তাকওয়া সম্পর্কে চারটি কথা বলেছিলেন, যেন চারটি দীপ্ত চাবিকাঠি:
أنه قال:”التَّقْوَى هِيَ الْخَوْفُ مِنَ الْجَلِيلِ، وَالعَمَلُ بِالتَّنْزِيلِ، وَالقَنَاعَةُ بِالقَلِيلِ، وَالإِسْتِعْدَادُ لِيَوْمِ الرَّحِيلِ.”(أرشيف ملتقى أهل الحديث: ص-313)
“আল্লাহকে ভয় করা, কুরআনের বিধান মেনে চলা, অল্পে তুষ্ট থাকা, এবং মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা।” এই চারটা যদি জীবনে আসে- তবে মুমিনের ভিতরেই গড়ে উঠবে এক অদৃশ্য সুরক্ষা বলয়। পাপের ধাক্কা লাগবে ঠিকই, কিন্তু সে গড়াবে না,থাকবে অনড়। তাকওয়া এমন একটা শক্তি, যা আপনাকে বাহ্যিক দুনিয়ায় না হলেও, অন্তর্জগতে সাহসী করে তোলে। সবার সামনে না হোক, আড়ালের সে আপনাকে সত্যিকারের মানুষ বানিয়ে দেয়। আপনি হয়ে ওঠেন একজন আল্লাহভীরু মানুষ-যার চোখে চোখে থাকে আখিরাতের হিসাব।
তাকওয়া মানে নিজেকে প্রশ্ন করা:
-এই কাজটা আল্লাহ পছন্দ করবেন তো?
-এই কথাটা বলে আমি সন্তুষ্ট করলাম কাকে?
-আমি আসলে কার জন্য বাঁচছি?
প্রতিদিন এই প্রশ্নগুলো করে যদি আমরা চলি, তাহলেই একদিন আমরা সত্যিকার মুমিন হয়ে উঠব ইনশাআল্লাহ।
তাই আসুন,
তাকওয়াকে করি আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি। তাকওয়াকে বানাই হৃদয়ের অভ্যাস।আর আখিরাত- হোক আমাদের সব পথের শেষ ঠিকানা।
তাকওয়া হোক আমাদের রুটিন, আর জান্নাত- আমাদের গন্তব্য।
বন্ধুত্ব কার সাথে করবেন?
কার সাথে বন্ধুত্ব করবেন? عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ الرَّجُلُ عَلَى دِينِ